ডাঃ জাকির নায়েক ও মতিউর
রাহমান
মাদানী উম্মতে মুহাম্মাদির
নতুন ফিতনা ।
__________________________
_____________________________
ডাঃ জাকির নায়েক ও মতিউর রাহমান
মাদানী সহ তাদের
মতানুসারীরা উপমহাদেশে হানাফী মতাদর্শের
মশালটা যেহেতু
দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের হাতে, আর
তাঁদেরই সমর্থিত বিশ্বব্যাপী সফলতম
ইসলামী প্রচারমিশন তাবলীগী জামাত যেহেতু
কোটি কোটি মানুষের মনে দাগ কাটছে, দিন দিন
পত্রপল্লবে সুশোভিত হচ্ছে
তাই, তাদের মতে এ শিবিরটাকে যেমন করেই হোক
তছনছ করে দিতে হবে। এজন্য সৌদি ‘সালাফী’
‘জামাতী’ মুবাল্লিগণ আদাজল
খেয়ে লেগেছেন। তাঁরা এখন বিভিন্ন
টিভি চ্যানেলেও তথাকথিত সালাফীদের
গায়রে মুকাল্লিদ
চিন্তাধারা এবং সালাফী লেখক আলবানির
নামায শিক্ষাদানের অভিযানে নেমেছেন।
হিদায়া, আলমগীরী, বাহরুর রায়েক,
শরহে বেকায়া, বেহেশতী যেওর, রাহে নাজাত,
মিফতাহুল জান্নাত নয় এখন সব রেফারেন্সের
জন্য নাসিরুদ্দিন আলবানির পুস্তকাদিই
পাঠক ও শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
সবাইকে সালাফী বানাতে হবে।
__________________________
_____________________________
ভারতবর্ষে ইসলামের সূচনাযুগ
থেকে নিয়ে বিগত শতাব্দির প্রথমার্ধ
পর্যন্ত মুসলমানদের আমলী জিন্দেগী ছিল
বড়ই সৌহাদ্যপূর্ণ এবং প্রাণবন্ত।
যেখানে ছিল মান্যতা, ছিল শ্রদ্ধাবোধ। নেক
আমল ও দ্বীনের পথে চলার জন্য একে অন্যের
পরামর্শ ও সহযোগিতার অমলিন
আচরণে হতো সিক্ত। মোগলদের ৮শত বছর
এবং পূর্বাপর সময়গুলোতে এতদঞ্চলের
ধর্মপরায়ণ সাধারণ মুসলমানরা নিজেদের
জীবনকে পুরো দ্বীনের ছাঁচে গড়ার জন্য
মাযহাবপন্থি সূক্ষ্মদর্শী উলামায়ে
কেরামের দ্বারস্থ হতেন। তাঁরা অক্লান্ত
মেহনত-মোজাহাদা ও সীমাহীন ত্যাগ
তিতিক্ষার বিনিময়ে কুরআন-সুন্নাহ-এর
আলোকে জনসাধারণকে ফেকহী সমাধান দিতেন।
সাধার মানুষ এসবের উপর আমল করে তাদের
আমলী জিন্দেগীকে সুশোভিত করতেন। এটা এই
অঞ্চলের মুসলমানদের হাজার বছরে ঐতিহ্য।
আলহামদুল্লিহ! এই ঐতিহ্য এখনও পর্যন্ত
বজায় আছে এবং কেয়ামত অবধি বহাল
থাকবে ইনশাআল্লাহ। কারণ, এটা শুধু
মুসলমানদের প্রথাগত ঐতিহ্য নয়,
বরং সাহাবায়ে কেরামের
সোনালি যুগে আল্লাহ-রাসূল নির্দেশিত
আর্দশের যে বিভা ছিল তারই অপরিবর্তিত
প্রতিচ্ছবি। সে আলোচনা পরে করা যাবে।
সম্প্রতি শুরু হয়েছে মুসলমানদের এই
সুন্দর ধারাবাহিক ঐতিহ্য এবং সাবলীল ও
স্বাচ্ছন্দ্যময় আমলী জিন্দেগী বিনাশের
মতো অপরিণামদর্শী পাঁয়তারা। কথিত
‘আহলে হাদীস’ ছদ্মনামে গায়রে মুকাল্লিদ
লা-মাযহাবীগণ মদীনা ভার্সিটি থেকে ‘আল
মাদানী’ হয়ে এসে এই অঞ্চলের
মাযহাবপন্থি বিশেষত হানাফী মাযহাব
অনুসারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের
লোকদের পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধানোর
অবস্থা সৃষ্টি করছে। কারো দ্বারস্থ
হওয়া নয়, কারো মতামত বা সহযোগিতা নয়
প্রত্যেককেই হতে হবে ‘আহলে হাদীস’!
নিত্যদিনের
প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিটি জিজ্ঞাসার
জবাব ব্যক্তিমাত্রকেই সরাসরি হাদীস
থেকে খুঁজে বের করে তবেই আমল করতে হবে।
এমনই উদ্ভট এবং ভয়াল এক
বিতিকিচ্ছি অবস্থার জন্ম দেয়া হচ্ছে।
সঙ্গত কারণেই হকপন্থি উলাময়ে কেরাম
ইলেকট্রিক মিডিয়ার প্রতি সর্বদাই অনীহ
ছিলেন। ছিদ্র-সন্ধানী আহলে হাদীসরা এই
সুযোগটাকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ
করেছে। যাদের ইলম এবং শিক্ষা-দীক্ষার
ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা যায় প্রচুর।
যারা জনবিচ্ছিন্ন এবং নিতান্ত অখ্যাত সেই
লোকগুলো মিডিয়ার সুযোগে মুসলমানদের
মাঝে অনৈক্য এবং বিভ্রান্তির তিক্ত বাষ্প
ছড়াচ্ছে। মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ
জালালাবাদী আল আযহারীর ভাষায়
“মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস
করে আসা অনেক পরিচিত বন্ধু-
বান্ধবকে যাদেরকে ইতোপূর্বে আমরা অনেক
আশার দৃষ্টিতে দেখতাম লক্ষ করলাম, ঢাকায়
ফিরে তাঁরা একান্তই জড়বাদী চিন্তা-
চেতনার পরিচয় দিচ্ছেন। কোথায়
বাড়ি কিনবেন, কোথায় দোকান করবেন এগুলোই
যেন তাদের চিন্তার কেন্দ্র। জাতীয়
প্রয়োজন, ইসলামের
প্রয়োজনে এখানে কী করণীয়
তা নিয়ে তাদের মধ্যে কোনোই
মাথাব্যাথা দেখা গেল না।… হ্যাঁ,
দু’চারজন অনেক চেষ্টা-তদবির
করে মুবাল্লিগের
চাকরি জুটিয়ে বিনা তাবলিগেই সৌদি বেতন-
ভাতা গুণতে লাগলেন। তাও আবার
মওদুদী চিন্তাধারার বা তথাকথিত
সালাফী না হলে সে চাকরি পাওয়া বা রক্ষা
করা দুরূহ। তাদের খেদমত বা করণীয়
অশিক্ষা, কুশিক্ষা, নাস্তিকতা,
দুর্নীতি বা হাজার হাজার বিদেশি সাহায্য
প্রতিষ্ঠান এনজিও) কর্তৃক এদেশের ধর্ম ও
সভ্যতা বিনাশের বিরুদ্ধে সংগ্রাম নয়।
তাদের সংগ্রাম ও সব সাধ্য-সাধনা এ দেশ
থেকে হানাফী মাযহাব দূর
করে কীভাবে ‘সালাফিয়্যাত’
তথা গয়রে মুকাল্লিদ
একটা সৌদি তল্পিবাহী সমাজ
গড়ে তোলা যায়।
__________________________
_____________________________
তাদের মধ্যে অন্নতম একজন আলেম
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস
করে আসা মতিউর রহমান মাদানী অন্যজন
গাইরে আলেম যার দীনি শিক্ষার সাথে কোন
শিক্ষিত নয় ডাঃ জাকির নায়েক
এই দুইজন ব্যাক্তি উম্মতে মুহাম্মাদির ৭৩
নং ফিরকা ।যার প্রমান আমরা তাদের ভিডিও
লিঙ্কে দেকতে পাই ।তার দৃষ্টান্ত
আল্লামা তাফসিরে কুরতুবী ভিবিন্ন
সুরাতে করে গেছেন তা নিম্নে দেওয়া হল
বনী ইসরাঈলের মাঝে ছিল ৭২ ফিরক্বা। এর
মাঝে ১টি ফিরক্বা ছিল জান্নাতী। আর ৭১
টি ফিরক্বা ছিল জাহান্নামী।
আর এই উম্মতের মাঝে হবে ৭৩টি ফিরক্বা। এর
মাঝে ১টি ফিরক্বা হবে জান্নাতী আর
৭২টি ফিরক্বা হল জাহান্নামী।
নবী কারীম সাঃ ইরশাদ করেছেন-পূর্বের
উম্মত যাই করেছে এই উম্মতও তাই
করবে নাফরমানীর দিক থেকে। তথা ওরা যত
পদ্ধতিতে নাফরমানী করেছে এই উম্মতও সেই
পদ্ধতীতে নাফরমানী করবে। সুতরাং আল্লাহ
তায়ালার নাফরমানী করার
৭১টি পদ্ধতিওয়ালা বাতিল ফিরক্বা পূর্ব
উম্মত থেকে গ্রহণ করবে এই উম্মত।
তথা ৭১টি বাতিল ফিরক্বার মত ও পথ পূর্ব
উম্মতের মত এই উম্মতেও থাকবে।
আর জান্নাতী ছিল পূর্ব উম্মতের ৭২
ফিরক্বার মাঝে একটি ফিরক্বা। সেটিও এই
উম্মতে পূর্ব পদ্ধতি অনুযায়ী থাকবে।
শুধু বাড়বে একটি বাতিল ফিরক্বা এই
উম্মতে। যেই বাতিল ফিরক্বার কোন নজীর
পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না। সেই বর্ধিত
বাতিল ফিরক্বাটি কারা?
আল্লামা কুরতুবী রহঃ তার প্রণীত
তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন-
. ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﻌﺎﺭﻓﻴﻦ : ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻔﺮﻗﺔ
ﺍﻟﺘﻲ ﺯﺍﺩﺕ ﻓﻲ ﻓﺮﻕ ﺃﻣﺔ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻫﻢ ﻗﻮﻡ ﻳﻌﺎﺩﻭﻥ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻭﻳﺒﻐﻀﻮﻥ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ،
ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺫﻟﻚ ﻗﻂ ﻓﻲ ﺍﻷﻣﻢ .ﺔﻔﻟﺎﺴﻟﺍ ( ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ
ﻷﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
ﺍﻟﻤﺆﻟﻒ : ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺑﻦ
ﻓﺮﺡ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﺍﻟﺨﺰﺭﺟﻲ ﺷﻤﺲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻲ
( ﺍﻟﻤﺘﻮﻓﻰ 671 : )
যেই
ফিরক্বাটি উম্মতে মুহাম্মদীদে বাড়বে
তারা হল-ওলামাদের সাথে শত্রুতা করবে, আর
ফুক্বাহাদের প্রতি রাখবে বিদ্বেষ। এই
গ্রপটি পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না।
{তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীর সূরাতুল আনআম}
স্বীকৃত বুযুর্গদের যারা মুশরিক বলে,
যারা বেদআত ও শিরকের বিরুদ্ধে আমরণ
করে গেছেন জিহাদ সে সকল জগত বিখ্যাত আলেম
ও ফক্বীহদের যারা শিরক ও বিদআতের
দোষে দুষ্ট করতে চায় ওরা যে, এই উম্মতের
বাতিল ফিরক্বা একথা বুঝতে নিশ্চয় কষ্ট
হবার কথায় নয়।
__________________________
__________________________
__________________________________________
এই দলটা কারা?
আল্লামা কুরতুবী রঃ তাফসীরে কুরতুবীতে
লিখেন-
ﻭﻗﺪ ﻣﻀﻰ ﻓﻲ “ﺁﻝ ”ﻥﺍﺮﻤﻋ ﻣﻌﻨﻰ ﻗﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ : “ﺗﻔﺮﻗﺖ ﺑﻨﻮ ﺇﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﺛﻨﺘﻴﻦ ﻭﺳﺒﻌﻴﻦ
ﻓﺮﻗﺔ ﻭﺃﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﻣﺔ ﺳﺘﻔﺘﺮﻕ ﻋﻠﻰ . ”ﻦﻴﻌﺒﺳﻭ ﺙﻼﺛ
.ﺚﻳﺪﺤﻟﺍ ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﻌﺎﺭﻓﻴﻦ : ﻫﺬﻩ
ﺍﻟﻔﺮﻗﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﺯﺍﺩﺕ ﻓﻲ ﻓﺮﻕ ﺃﻣﺔ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻫﻢ ﻗﻮﻡ ﻳﻌﺎﺩﻭﻥ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻭﻳﺒﻐﻀﻮﻥ
ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ، ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺫﻟﻚ ﻗﻂ ﻓﻲ ﺍﻷﻣﻢ .ﺔﻔﻟﺎﺴﻟﺍ
( ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﻷﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
ﺍﻟﻤﺆﻟﻒ : ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺑﻦ
ﻓﺮﺡ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﺍﻟﺨﺰﺭﺟﻲ ﺷﻤﺲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻲ
( ﺍﻟﻤﺘﻮﻓﻰ 671 : )
প্রথম উম্মতের মাঝে ইজতিহাদ ছিলনা। তাই
ইজতিহাদের দুশমনও ছিলনা। এই উম্মতের
মাঝে ইজতিহাদ আছে। তাই ইজতিহাদের দুশমনও
আছে। আর এই উম্মতের অতিরিক্ত
জাহান্নামী ফিরক্বা হল ইজতিহাদের দুশমন
ফুক্বাহায়ে কিরামের দুশমন দল।
{তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীর সূরাতুল আনআম}
এই ফুক্বাহাদের দুশমন
জাহান্নামী ফিরক্বা বাড়বে উম্মতে
মুহাম্মদীতে।
আল্লাহ তায়ালার কাছে ফুক্বাহাদের
মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা কতটা মর্যাদা দিয়েছেন
ফুক্বাহায়ে কিরামকে, হাদীস কুরআনের
বিভিন্ন বর্ণনা দেখলেই তা আমাদের
বুঝে আসে।
ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ -ﻢﻠﺳﻭ « ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢُ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺻَﺎﺏَ ﻓَﻠَﻪُ
ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺧْﻄَﺄَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮٌ
হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল
সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যখন কোন বিশেষজ্ঞ
হুকুম দেয়, আর তাতে সে ইজতিহাদ করে তারপর
সেটা সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য
রয়েছে দু’টি সওয়াব। আর যদি ইজতিহাদ
করে ভুল করে তাহলে তার জন্য
রয়েছে একটি সওয়াব। {সহীহ বুখারী, হাদিস
নং-৬৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬,
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৪৫৮৪}
—
শান্তির ধর্ম ইসলাম
Sunday, August 3, 2014
ইন্টারনেটে , ফেসবুকে আহলে হাদীসরা এবং রাজারবাগী, দেওয়ানবাগীসহ কিছু ভন্ড পীরের অনুসারীদের জবাব ।
Friday, April 25, 2014
পর্দার বিধান
পর্দার বিধান
পর্দা – শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম
পর্দা শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম ।
এ হুকুমের উপর আমল নারীর ইজ্জত
সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি করে। দুনিয়ার
জীবনে তাকে সুসংহত ও নিরাপদ করে ।
পর্দা নারীর ভূষণ, নারীর পবিত্রতা,
তার স্বকীয়তা, আত্মমর্যাদাবোধ, লজ্জা ও
ঈমান । মুসলিম সমাজে পর্দার রেওয়াজ
আছে। কিন্তু পরিপূর্ণ শরয়ী পর্দা খুবই
কম । ব্যাপকভাবে পর্দার
ব্যাপারে বিভিন্ন দিক
দিয়ে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় । নি¤েœ
এ সম্পর্কিত কিছু বিষয় তুলে ধরা হল
যেন মুসলিম মা-বোনেরা পরিপূর্ণ
শরয়ী পর্দা করতে সক্ষম হয় ।
চেহারাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত
এক শ্রেণীর লোক নারীর
চেহারাকে পর্দার অন্তর্ভুক্ত
মনে করে না । অথচ চেহারা পর্দার
গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চেহারা পর্দার
অন্তর্ভূক্ত না হওয়ার ব্যাপারে সূরা নূরের
৩১ নং আয়াত উল্লেখ করা হয়। আল্লাহ
তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘তারা যেন তাদের
সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তবে যা সত্যই
প্রকাশমান’। অথচ হিজাবের মূল আয়াত
এটি নয়। পর্দার বিষয়ে এই আয়াত
দ্বারা দলীল দেওয়া এবং এই আয়াতকেই
একমাত্র দলীল মনে করা ভুল । মূলত
পর্দার আয়াত হল সূরা আহযাবের ৫৯
নং আয়াত ।
‘হে নবী আপনার স্ত্রী ও
অন্যদেরকে এবং মুমিনদের
স্ত্রীদেরকে বলুন, তারা যেন চাদর
নিজেদের উপর টেনে নেয়’।
ইমাম সূয়ূতী র. বলেন, এটি সকল নারীর
জন্য হিজাবের আয়াত । এতে মাথা ও
চেহারা ঢাকা ওয়াজিব করা হয়েছে। হযরত
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উক্ত আয়াতের
তাফসীরে বলেন, আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের
স্ত্রীদের আদেশ করেছেন তারা যেন
প্রয়োজনের মুহূর্তে বাড়ি থেকে বের
হওয়ার সময় উপর
দিয়ে পর্দা ঝুলিয়ে চেহারা ঢেকে রাখে এবং
শুধু এক চোখ খোলা রাখে।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৩/৮২৪)
প্রখ্যাত ফকীহ
তাবেয়ী উবাদা আসলামী রা. দেখিয়েছেন,
কীভাবে নারীগণ এই আয়াতের উপর আমল
করেন। তিনি তাঁর চাদর
দিয়ে এমনভাবে মুখমন্ডল আবৃত করলেন যে,
নাক ও বাম চোখ আবৃত হয়ে গেল। শুধু ডান
চোখ খোলা থাকল। তদ্রƒপ মাথার উপর
থেকে কপাল ও চোখের ভ্রুও আবৃত হল ।
তাফসীরে তাবারী, আদ্দুররুল মানসুর
৫/২২১, আহকামুল কোরআন- জাসসাস:
৩/৩৭১; তাফসীরে কাশশাফ ৩/২৭৪;
আহকামুল কোরআন- ইবনুল
আরাবী ৩/১৫৮৫-১৫৮৭; যাদুল মাসীর
ফী ইলমিত তাফসীর ৬/৪২২; আদ্দুররুল
মানসুর ৫/২২১; আনওয়ারুত তানযীল
ওয়া আসরারুত তাবীল ২/২৮০;
তাফসীওে কুরতুবূ ১৪/২৪৩-২৪৪।
উল্লেখ্য, সূরা নূরের ৩১ নং আয়তে মূলত
সতরের সীমারেখা বর্ণনা করা হয়েছে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে আব্বাস রা. থেকে হাত এবং মুখ
খোলা রাখার তথাও বর্ণিত হয়েছে। তবে এ
বর্ণনাগুলোর অধিকাংশই নেহায়েত দুর্বল
। দু’একটি গ্রহণযোগ্য বর্ণনা রয়েছে।
সে হিসাবে এটি এ আয়াতের
একটি ব্যাখা ।
আয়াতের অন্য আরেকটি ব্যাখ্যা হল,
‘মা যাহারা মিনহা’ দ্বারা উদ্দেশ্য কাপড়
। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে মাসঊদ রা. এই ব্যাখ্যাই করেছেন ।
ইমাম ইবনে কাসীর র. এই মতকে প্রধান্য
দিয়ে বলেন, হযরত হাসান, ইবনে সীরিন,
আবুল জাওযা, আব্দুর রহীম নাখয়ী, হযরত
ইবনে মাসঊদ রা. এর অনুরূপ মত ব্যক্ত
করেছেন।
ইবনে জাওযী র. আরো বলেন, ইমাম আহমদ
র.ও বলেছেন যে, প্রকাশ্য সৌন্দর্য হল
কাপড়, আর নারীরর শরীরের সব কিছু
এমনকি নখও পর্দার অন্তর্ভুক্ত । ( যাদুল
মাসীর ৬/৩১)
আর ইবনে আব্বাস রা. এর ব্যাখ্যা গ্রহণ
করলেও এই আয়াত পরবর্তীতে নাযিলকৃত
হিযাবের আয়াত দ্বারা মানসুখ হয়েছে ।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া র. সহ
আরো কিছু মনীষীও এই মত পোষণ
করেন।
আয়েশা রা. এর ‘ইফক’এর ঘটনায়
উল্লেখিত হাদীস নসখেন সুস্পষ্ট
প্রমাণ। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.
বলেন, আমি যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তখন
সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আমার
নিকটে এসে আমাকে দেখে চিনে ফেলল।
কেননা, সে আমাকে হিজাবের হুকুম নাযিল
হওয়ার আগে দেখেছিলেন। সে তখন
ইন্নালিল্লাহ বলল । আমি তার
ইন্নালিল্লাহ বলার শব্দে জেগে উঠি ।
তখন আমি ওড়না দিয়ে আমার মুখ
ঢেকে ফেলি’। সহীহ বুখারী ৫/৩২০;
সহীহ মুসলিম হাদীস ২৭৭০;
জামে তিরমিযী হাদীস ৩১৭৯) প্রকাশ
থাকে যে, সাহাবায়ে কেরাম হিজাবের আয়াত
নাযিল হওয়ার পর চেহারায় পর্দা করতেন,
যা আম্মাজান আয়েশা রা. এর উক্ত হাদীস
দ্বারা প্রমাণিত । এছাড়া এ সংক্রান্ত
আরো প্রমাণ পরবর্তী আলোচনায় আছে।
এহরাম অবস্থায়
মহিলারা চেহারা খোলা রাখা
অনেকে মনে করে, ইহরাম অবস্থায় চেহারার
পর্দা নেই। ফলে তারা অন্য সময়
পর্দা করলেও ইহরাম অবস্থায় চেহারার
পর্দা করেন না। প্রকৃত বিষয় এই যে,
ইহরাম অবস্থায় চেহারায় কাপড়
লাগানো নিষেধ, কিন্তু পর্দা করা নিষেধ
নয় । উম্মুল মুমিনীন ও একাধিক
সাহাবী থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত
আছে যে, তারা ইহরাম অবস্থায়ও চেহারার
পর্দা করতেন । আম্মাজান হযরত
আয়েশা রা. বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সা.
এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম ।
পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম
করত । তারা আমাদের নিকট
আসলে আমরা মাথার উপর থেকে নেকাব
চেহারায় ফেলে দিতাম ।
তারা চলে গেলে নেকাব উঠিয়ে নিতাম।
( সুনানে আবূ দাঊদ হাদীস ১৮৩৩; ফাতহুল
বারী ৩/৪৭৪)
হযরত ফাতেমা বিনতে মুনযির র. বলেন,
অর্থ আমরা ইহরাম অবস্থায় চেহারা আবৃত
করে রাখতাম । আবূ বকর সিদ্দীক রা. এর
কন্যা আসমা রা. এর সাথে আমরা ছিলাম ।
তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেননি ।
(মুয়াত্তা মালেক: পৃঃ ২১৭২) মোটকথা,
সাহাবা-তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীনের
মাঝে কোন দ্বিমত ছিল না । এ
ব্যাপারে তাদের মাঝে ব্যাপক আমল ছিল ।
এমনকি ইহরাম অবস্থায় যখন চেহারায়
কাপড় লাগানো মহিলাদের জন্যও নিষিদ্ধ
তখনও তারা চেহারার পর্দা করতেন ।
চোখ ঢাকাও পূর্ণ পর্দার অংশ
অনেকে অর্ধমুখ খোলা রাখেন । ভ্রƒর
উপর থেকে নাকের অর্ধেক পর্যন্ত
খোলা রাখেন । এটাও ঠিক নয় । হযরত
আয়েশা রা. ও ফাতিমা বিনতে মুনযির রা.
এর উপরোক্ত বর্ণনায় পূর্ণ চেহারা ঢাকার
কথা আছে। এছাড়া সূরা আহযাবের ৫৯
নং আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস
রা. এবং উবাদা আসলামী রা. যা বলেছেন,
তা আরো স্পষ্ট যে, তিনি বাম চোখও
ঢেকে নিয়েছেন। শুধু ডান চোখটি দেখার
স্বার্থে বের করে রেখেছেন । আর মাথার
উপর থেকে নেকাব এমনভাবে ঝুলিয়েছেন
যে, চোখও ভ্রু ঢেকে আছে। আজকাল
নেকাবের জন্য পাতলা কাপড় পাওয়া যায় ।
যা ব্যবহারে ঢেকে যায় । আবার চলাচলেরও
অসুবিধা হয় না।
মাহরাম ছাড়া সফর করা
আজকাল অনেক মহিলারা দূর দূরান্ত
থেকে মাহরাম ছাড়া একাকী সফর করে ।
দেশে এক শহর থেকে অন্য শহর
এমনকি বিদেশ সফরও একাকী করে থাকে ।
এটা নাজায়েজ । শরীয়তের বিধান হল ৪৮
মাইল বা ততোধিকের সফর
মহিলারা মাহরাম ছাড়া করবে না। অন্য
মহিলাদের সঙ্গী হয়ে যায়ার ও
অনুমতি নেই । অনেক মহিলারা মাহরাম
ছাড়া হজ্বের সফরেও যায় । অন্য মহিলার
সঙ্গী হয়ে যাওয়াকে বৈধ মনে করে ।
বিশেষ করে জিদ্দা থেকে কোন মাহরাম
সঙ্গী হওয়ার
মতো ব্যবস্থা থাকলে এবং দেশে বাড়ি থেকে
এয়ারপোর্ট
পৌঁছে দিলে পথিমধ্যে একাকী সফরকে
দোষনীয় মনে করা হয় না । অথচ
একাকী সফর করার বাপারে হাদীস
শরীফে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
হজ্জের সফরেও একাকী যাওয়ার
ব্যাপারে নিষেধ এসেছে।
(সহীহ মুসলিম ৯/১১০;
সুনানে দারাকুতনী ২/২২৩)
নিয়মিত বাইরের ব্যস্ততা সমীচীন নয়
অনেক মহিলারা ঘরের বাইরের
ব্যস্থতা নিয়মিত রাখে । যেমন চাকরি,
স্কুল-কলেজে পড়া লেখা ইত্যাদি।
নিয়মিত বাইরের ব্যস্ততা রাখা ঠিক
নয়। বিশেষত একাকী যাতায়াত
করা আরো খারাপ। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
‘তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান কর ।’
এই আয়তের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন,
অতি প্রয়োজন ছাড়া মহিলাদের বের
হওয়া ঠিক নয় । আর নিয়মিত বাইরের
ব্যস্ততায় ফিতনার আশংকা রয়েছে। এজন্য
মসজিদের জামাতে অংশগ্রহণ করতেও
নিষেধ করা হয়েছে। তাই পড়া-
শুনা বা প্রয়োজনীয় কোন
কাজে নিয়মতি বের হলে পূর্ণ শরঈ
পর্দার সাথে মাহরামসহ বের হবে ।
মহিলাদের একাকী বাজার করা অনুচিত
অনেক পর্দাশীল মহিলা একাকী বাজার
করে । অথচ একাজগুলো বাড়ির পুরুষদের
দিয়ে সুন্দরভাবে হয়ে যায়। এ কাজ
মহিলাদের
নিজে নিজে করা কোরআনে কারীমের
আয়াত-‘তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান
কর’-এর খেলাফ । দ্বিতীয়ত
কেনাকাটা করতে গিয়ে দোকানী পুরুষদের
সাথে সরাসরি কথাবার্তা বলতে হয়,
পুরুষদের ভীড়ের মধ্য
দিয়ে চলাফেরা করতে হয় ।
এভাবে শরীয়তের হুকুম লঙ্ঘন করা হয়।
এজন্য মহিলাদের এভাবে একাকী বাজার
করা অনুচিত ।
বাইরে সুগন্ধি ব্যবহার করা নাজায়েয
অনেক মহিলা বাইরে বের হওয়ার সময়
পর্দা করে বের হয় বটে, কিন্তু পারফিউম
বা অন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে ।
মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার সময়
সুগন্ধি ব্যবহার করা নাজায়েয।
এতে পর্দা লঙ্ঘন হয় । শরঈ পর্দা আদায়
হয় না । হাদীস শরীফে ওই সব মহিলার
উপর অভিসম্পাদ
করা হয়েছে যারা সুগন্ধি মেখে বের হয় ।
এক হাদীসে এসেছে, অর্থ:
যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে বের
হল, অতঃপর লোকদের পাশ
দিয়ে অতিক্রম করল যে, তারা যেন
সুঘ্রাণ পায় সে ব্যভিচারিনী ।
(মুসনাদে আহমাদ ৪/৪১৪;
মুসতাদরাকে হাকেম ২/৩৯৬; সুনানে আবূ
দাঊদ ৪১৭৫)
আঁটসাঁট বোরকা পরা
কিছু মহিলা এমন বোরকা পরে যে,
বোরকার উপর দিয়ে শরীরের আকার-
আকৃতি বোঝা যায় । কেউ কেউ
একেবারে টাইটফিট বোরকা পরে । এমন
পোশাক পরে বাইরে রেব হয়, যা পরিধান
করে বাইরে বের হওয়া নাজায়েয ।
এতে বোরকার হক আদায় হয় না । শরীরের
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে উঠে এমন
পোশাকে যারা বের হয় তাদেরকে হাদীস
শরীফে কঠিন ভাবে সাবধান করা হয়েছে।
এক হাদীসে তাদের উপর লানত
করা হয়েছে। আর এক হাদীসে বলা হয়েছে,
দুই শ্রেণীর লোক জাহান্নামী তার
মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী লোক হচ্ছে, ঐ
সকল নারী, যারা পোশাক পরিধান
করা স্বওে¦ও বিবস্ত্র । অন্যকে নিজের
প্রতি আকর্ষণকারিনী ও নিজেও আকৃষ্ট।
বুখতি উটের উঁচু কুঁজের মতো তাদের চুলের
খোপা । এসব নারী জান্নাতে প্রবেশ
করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের
সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের
সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যাবে’।
আকর্ষণীয় ও কারুকার্যময়
বোরকা পরিধান করা
আজকাল জাঁকজমকপূর্ণ বোরকার প্রচলন
বেরেছে। বিভিন্ন ডিজাইনের আকর্ষণীয়
বোরকা । এধরনের জাঁকজমকপূর্ণ
আকর্ষণীয় বোরকা পরা ঠিক নয় ।
মহিলাদরে বাইরে বের হওয়ার
একটি মূলনীতি হল, বাড়তি আকর্ষণ
সৃষ্টিকারী কোন কিছু ব্যবহার না করা ।
এজন্য সুগন্ধিসহ সকল আকর্ষণ
সৃষ্টিকারী বস্তু ব্যবহার নাজায়েজ । কেউ
কেউ পেন্সিল হিল ব্যবহার করে । এর
ব্যবহারও এড়িয়ে চলা জরুরী ।
পুরুষদের সঙ্গে সহাবস্থান
পুরুষদের সাথে একত্রে চাকরি বা পড়া-
শুনার ক্ষেত্রে বোরকা পরাকেই যথেষ্ট
মনে করা হয় । অথচ গায়রে মাহরাম
পুরুষের সাথে সান্নিধ্য ও তাদের
সঙ্গে ওঠাবসা থেকে মহিলাদের
দূরে থাকা কর্তব্য । তাই পুরুষের
সহাবস্থানে শুধু বোরকা দ্বারা পর্দার হক
আদায় হয় না । কেননা পর পুরুষের
সাথে উঠা-বসা, লেনদেন জিনিসপত্রের
আদান-প্রদান এবং অফিসিয়াল
প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে অপরিচিতদের
সাথে কথাবার্তা বলতে হয় । এতেও পর্দার
খেলাফ হয় । এসকল
ক্ষেত্রে বোরকা পরে থাকলেও পর্দার
খেলাফ হয় । অবশ্য বোরকা পরিধানের
কারণে বোরকা ছাড়া মহিলাদের চেয়ে গুনাহ
কম হবে।
অন্যদের সাথে কোমলতা প্রদর্শন ঠিক নয়
গায়রে মাহরামের সাথে প্রয়োজনীয়
কথা বলা নিষেধ নয় । কিন্তু এক্ষেত্রেও
কোমলতা বর্জন করা কোরআনের নির্দেশ।
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পর
পুরুষের সাথে কোমল স্বরে কথা বলো না ।
ফলে সে ব্যক্তি কুবাসনা করবে যার
অন্তরে ব্যধি রয়েছে।’ (সূরা আহযাব:৩২)
সুতরাং প্রয়োজনীয় কথা-বার্তার
ক্ষেত্রে কোমলতা বর্জন না করাও পর্দার
খেলাফ। আর প্রয়োজন
ছাড়া গায়রে মাহরামের সাথে কথা না বলাই
কাম্য। বিশেষ কোন ফেতনার
আশংকা থাকলে কথা বলা জায়েয হবে না।
(শরহে মুসলিম- নববী কৃত
২/১২১আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৬; আল
মুফাসসাল৩/২৭৬)
শরঈ পর্দার শর্তাবলি
শর্তগুলো উপরে বিক্ষিপ্তভাবে এসেছে
সহজকরণের
লক্ষে তা সংক্ষিপ্তভাবে আবারো প্রদত্ত
হল। অনেক মা-বোনই পর্দা করে কিন্তু
অনেকে জানেনই না পূর্ণ পর্দা কাকে বলে?
এর জন্য কি কি শর্ত রয়েছে? তাই পূর্ণ
পর্দার শর্তাবলি উল্লেখ করা হল।
১.কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া।
এক্ষেত্রে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পূর্ণ
শরীর আবৃত করা, মুখ ও চোখের উপর
নেকাব রাখা, হাত মোজা ও
পা মোজা পরিধান করা।
২.বোরকার কাপড় ভালো ও শালীন হওয়া,
আকর্ষণীয় কারুকাজ ও নকশা না থাকা।
অর্থাৎ বোরকা আকর্ষণীয় না হওয়া।
আজকাল বিভিন্ন প্রিন্টের
বোরকা পাওয়া যায় যথা সম্ভব এ
থেকে এড়িয়ে থাকা। তদ্রƒপ
কালো কাপড়ের উপর আকর্ষণীয় কাজও যেন
না হয়।
৩.বোরকার কাপড় মোটা হওয়া। এমন
পাতলা না হওয়া যে, শরীরের অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গ দেখা যায়।
৪.অধিক ঢিলাঢালা বোরকা হওয়া। এমন
আঁটসাঁট না হওয়া যে, বোরকা শরীরের
সাথে লেগে থাকে কিংবা পরিধানের পর
শরীরের কোন অঙ্গ প্রকাশ পায়।
৫.বাইরে বের হওয়ার সময়
সুগন্ধি ব্যবহার না করা। এটাও শরঈ
পর্দার অংশ।
৬.এমন অলংকার পরে বাইরে না যাওয়া,
যা পরিধান করে চললে আওয়াজ হয়।
যেমন-নুপুর, কাঁচের চুড়ি ইত্যাদি।
৭.চিকন ও লম্বা হিল বিশিষ্ট
জুতাপরিধান না করা। যেন
চললে স্বাভাবিকতা বজায় থাকে।
৮.উঁচু করে খোপা বা চুল না বাঁধা।
৯.গায়রে মাহরামের সাথে অপ্রয়োজণীয়
কথা বলা ও সালাম দেওয়া-
নেওয়া থেকে বিরকত থাকা।
প্রয়োজনে বলতে হলে কোমলতা পরিহার
করা।
১০.সফরসম দূরত্বে কিংবা ফেতনার
আশংকা থাকলে মাহরাম পুরুষের
সঙ্গে যাওয়া।
মহিলাদের নাম সতর নয়
কেউ কেউ মনে করে মহিলাদের নামের
পর্দা আছে। পর পুরুষের সামনে বলা গুনাহ
। এধারণা ঠিক নয়। এতে গুনাহ নেই ।
তবে মহিলাদরে নাম
অন্যকে বিনা প্রয়োজনে না বলাই ভালো।
ফিতনামুক্ত থাকার জন্য এটি সহায়ক
হতে পারে।
চাচী, মামী ও ভাবীর
সঙ্গে পর্দা করা আবশ্যক
কেউ কেউ মনে করে চাচী, ভাবী, মামী এ
ধরনের গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের
সাথে দেখা দেয়া যায়। বিশেষত যখন
তাদের কাছেই বড় হয়
কিংবা তারা বয়স্কা হয়ে যান। কিন্তু
যেহেতু ইসলামে তাঁদের সঙ্গেও পর্দার
বিধান রয়েছে তাই শুধু উপরোক্ত
যুক্তিতে দেখা জায়েয হবে না।
সর্বাবস্থায় তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ
হারাম।
উকিল বাবার সাথে পর্দা করা আবশ্যক
বিয়ের সময় যাকে উকিল বানানো হয়
তাকে সমাজে পাত্র-পাত্রীর উকিল
বাবা বলা হয়। তার
সাথে পরবর্তীতে অবাধে দেখা-সাক্ষাত
করা হয়। এমনকি মাহরামের অন্তর্ভুক্তও
মনে করা হয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল।
গায়রে মাহরামকে উকিল বানানো হলেও
তার সাথে দেখা-সাক্ষাত পূর্বের মতোই
হারনাম।
ধর্মের বোন ডাকা ও পর্দা না করা
অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে গায়রে মাহরাম
মহিলাকে বোন ডাকে। সমাজে একে ‘ধর্মের
বোন’ বলে অভিহিত করা হয়। ধর্মের
বোনের সাথে আপন বোনের মতোই আচরণ
করা হয় পর্দা করা হয় না। এমনকি অনেক
ক্ষেত্রে মীরাসও দেওয়া হয়।
গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে এ ধরনের
সম্পর্ক বৈধ নয়। ধর্মের বোন
বলতে যা বোঝানো হয় শরীয়তে তা স্বীকৃত
নয়। তাদের পরস্পর দেখা-সাক্ষাত
নাজায়েয।
মহিলাদের মসজিদে গমন
কিছু কিছু পর্দাশীন
নারী মসজিদে গিয়ে নামায আদায়
করে থাকে। বিশেষত জুমআ পড়ে থাকে।
এভাবে মসজিদে গিযে নামায আদায়
করলে নামায হয়ে যাবে কিন্তু তাদের জন্য
মসজিদে শরীক হয়ে নামায পড়া মাকরুহ।
(ফাতাওয়া শামী ১/৫৬৬; বাদায়েউস
সানায়ে ১/৬১৭১/৩৮৮)
মহিলাদের মসজিদে যাওয়াকে রাসূল সা.
নিরুৎসাহিত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ
৬/৩৭১)
পরবর্তীতে আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.
সহ অনেক সাহাবী মহিলাদের
মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ
বোখারী ১/১২০; সহীহ মুসলিম১/১৮৩
মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা ৫/২২-২০৩)
মহিলাদের মসজিদে নামায আদায়ের
মধ্যে বিশেষত বর্তমান যুগে পর্দার হক
আদায় হয় না।
মাহরাম পুরুষের সামনে সতরের
ব্যাপারে উদাসীনতা
আমাদের দেশে মহিলাদের
অনেকে শাড়ী পরে থাকে। এতে অনেক সময়
পেট ও পিঠ খোলা থাকে ঘরে মাহরাম
পুরুষের সামনে একে গুনাহ মনে করা হয়
না। অথচ এর দ্বারা সতর খোলার গুনাহ
হয়। মহিলাদের পেট-পিঠ সতরের
অন্তুর্ভুক্ত। মাহরাম পুরুষের সামনেও
তা ঢেকে রাখা ফরয।
জাহেলী যুগের মতো ওড়না ব্যবহার
জাহেলী যুগে ওড়না ব্যবহারের নিয়ম
ছিল, নারীরা মাথায় ওড়না দিয়ে তার দুই
প্রান্ত পৃষ্ঠদেশে ফেলে রাখত। ফলে গলা ও
বক্ষদেশ অনাবৃত থাকত। ইসলামের
প্রথমযুগে আল্লাহ তা‘আলা জাহেলী যুগের
এই কু-প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
কোরআন মজীদে এসেছে-‘তারা যেন
বক্ষদেশে ওড়না ফেলে রাখে’ (সূরা নূর;৩১)
আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. বলেন, যখন
এই আয়াত নাযিল হয়, তখন (তৎক্ষণাৎ
আমলের জন্য মহিলা সাহাবিগণ নিজেদের-
পেটিকোট) নিয়ে তার পাশ
থেকে কেটে তা ওড়না রূপে পরে নেয়।’ (
সহীহ বুখারী ৮/৩৪৭)
বর্তমান জাহেলীযুগ পূর্বের জাহেলী যুগও
ছেড়ে গেছে। অতি আধুনিক
মেয়েরা তো ওড়না ব্যবহারই করে না। কেউ
কেউ ব্যবহার করলেও জাহেলী যুগের
মতো গলাও বক্ষদেশ খোলা রাখে।
সুতরাং ঘরে-বাইরে সর্বত্র মহিলাদের
ওড়না পরিধানের নিয়ম এটিই।
এমনকি ফাতাওয়া শামীতে ঘরের
মাহরামদের সামনে মহিলাদের মাথায়
কাপড় রাখাকে মুস্থাহাব বলা হয়েছে।
(ফাতাওয়ায়ে শামী: ১/৪০৪)
পালক সন্তানের সাথে পর্দা করা
পালক সন্তান আপন সন্তানের মতো নয়।
তার সাথে পর্দা করা ফরজ। হ্যাঁ,
সন্তানের দুই বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার
আগে যদি নিজের বুকের দুধ খাওয়ায়
সেক্ষেত্রে সন্তানও হয়ে যায়। আর দুধ
সন্তানের সাথে দেখা দেওয়া জায়েয । দুধ
পান না করিয়ে থাকলে পালক সন্তানের
সাথে দেখা দেয়া জায়েয হবে না। পালক
সন্তান নিজের সন্তানের মতো নয়
তা সূরা আহযাবের ৪ও৫নং আয়াতে সুস্পষ্ট
বলা হয়েছে।
মেয়েদের পর্দার বয়স
অনেকে মনে করে ¯্রাব
না দেখা দেয়া পর্যন্ত পর্দার বয়স হয়
না। এই ধারণা ঠিক নয়। মেয়েরা বড়
হয়ে ওঠলেই পর্দার বয়স শুরু হয়ে যায় ।
ফাতাওয়ায়ে শামীসহ অন্যান্য
ফাতাওয়া গ্রন্থে নয় বছর অতিক্রম
করলেই পর্দার বয়স হয়ে যাওয়ার
কথা বলা হয়েছে। তাই এই বয়স থেকেই
পর্দা করা জরুরূ।
(ফাতাওয়ায়ে শামী:১/৪০৮;৩.৩৭ আহসানুল
ফাতাওয়া :৮/৩৮)
ছেলেদের পর্দার বয়স
ছেলেদের যখন নারীদের সৌন্দর্য
সম্পর্কে সচেতন হতে আরম্ভ করে তখন
থেকেই তার সঙ্গে পর্দা করতে হবে।
সূরা নূরের ৩১নং আয়াতে এসেছে তারা যেন
তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে কিন্তু
তাদের স্বামীর নিকট অথবা যৌন
কামনামুক্ত পুরুষ ও বালক যারা নারীদের
আবৃত অঙ্গ-প্রতঙ্গ সম্পর্কে সচেতন
নয়।” (সূরা আন নূর ৩১)
এই চেতনা সাধারণত কত বছর বয়সে হয় এ
নিয়ে ফকীহগণের বিভিন্ন মত আছে।
ইমাম আহমদ র. সহ অনেকেই দশ বছর
বলেছেন।
তবে ফাতাওয়া শামীতে বয়োপ্রাপ্তির
ন্যূনতম সীমা ১২ বছর বলা হয়েছে।
সুতরাং ছেলের ১২ বছর বয়স হলেই তার
সাথে নারীদের পর্দা করতে হবে। তবে দশ
বছর বয়স থেকেই শুরু করা ভাল।
প্রসঙ্গত বর্তমানে এ বিষয়ে অনেক
বেশী সতর্ক ও সচেতন হওয়া উচিত।
ফাতাওয়ায়ে শামী : ৩/৩৫; আলমুফাসসাল:
৩/১৮০-১৮১)
মেয়েদের সাথে মেয়েদের পর্দা
অন্য নারীর সামনে একজন নারীর সতর
নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত । এ অংশ কোন
বিশেষ ওযর ছাড়া কোন নারীর সামনেও
খোলা জায়েয নয়। আর পেট, পিঠ, বুক
এগুলোও প্রয়োজন ছাড়া অন্য নারীর
সামনে অনাবৃত করা অনুচিত। আর ফিতনার
আশংকা হলে তা আবৃত রাখা জরুরী। ( আল
মুফাসসাল: ৩/২৬৫; ফাতাওয়া শামী:
৬/৩৭১)
বিধর্মী নারীর সাথে মুসলিম নারীর
পর্দা না করা গুনাহ
বিধর্মী নারীর সামনে মুখ, হাত ও
পা ছাড়া পুরো শরীর এমনকি চুলও
ঢেকে রাখা জরুরী। তাদের সামনে শরীরের
সৌন্দর্য প্রকাশ করা গুনাহ।
(ফাতাওয়ায়ে শামী: ৬/৩৭১; ইমদাদুল
ফাতাওয়া: ৪/১৯৬)
পুরুষদের প্রতি নজর করা
এ প্রসঙ্গে সূরা নূরের ৩১ নং আয়াত
স্মরনীয়। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
অর্থ-‘হে নবী! আপনি মুমিন নারীদের
বলে দিন, তারা যেন দৃষ্টিকে অবনত
রাখে।’অর্থাৎ পর পুরুষের
দিকে না তাকায়। হযরত উম্মে সালমা রা.
বলেন, আমি রাসূল সা. এর কাছে ছিলাম,
হযরত মায়মুনা রা. ও ছিলেন।
ইতিমধ্যে অন্ধ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে উম্মে মাকতুম এলেন। এটা ছিল
হেজাবের হুকুম নাযিল হওয়ার পরের
ঘটনা। তখন নবী কারীম সা. ইরশাদ
করলেন.
অর্থ: তোমরা দু’জন তার থেকে পর্দা কর।
আমরা বললাম, সে তো অন্ধ।
আমাদেরকে দেখছে না এবং আমাদেরকে চিনেও
না। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরাও
কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাচ্ছ
না? (সুনানে আবূ দাঊদ হাদীস ৪১১২)
উক্ত আয়াতও হাদীসের আলোকে ফকীহগণ
বলেন, কুনজরে পুরুষের
দিকে তাকানো মহিলাদের জন্য নাজায়েয।
তদ্রƒপ আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এমন
গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করাও নিষেধ। আর
কোন ধরনের ফিতনার
আশংকা না হলে সাধারণ দৃষ্টিতে পর
পুরুষের দিকে তাকানো নাজায়েয নয়।
তবে এক্ষেত্রে না তাকানোই ভালো।
(ফাতাওয়া শামী: ৬/৩৭১;
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/২২৭; আল
মুফাসসাল: ৩/২২৭; জামেউ আহকামিন
নিসা: ৪/২৮৩; বেহেশতী জেওর: ৩/৬৫)
পুরুষদের নিকট গায়রে মাহরাম নারীদের
সৌন্দর্য বর্ণনা করা
একাধিক হাদীসে গায়রে মাহরাম নারীর
সৌন্দর্য বর্ণনা করতে েিষধ করা হয়েছে।
এতেও নারীর পর্দার এক প্রকার লঙ্ঘন
আছে। সাধারণত মেয়েরা তার স্বামী, ভাই
ইত্যাদির কাছে গায়রে মাহরাম মহিলাদের
সৌন্দর্য গুণাবলি বর্ণনা করে থাকে।
যেমন- কোন পর্দাশীন মেয়েদের
সাথে সাক্ষাৎ হলে, নতুন করে তার
কথা বলে ইত্যাদি। এটি গুনাহ । এর
দ্বারাও এক প্রকার পর্দার লঙ্ঘন হয়।
হাদীস শরীফে এসেছে, নারীগণ যেন
পরস্পর এ ইদ্দেশ্যে একত্রিত না হয় যে,
স্বামীর কাছে অন্যদের
গুণাবলি এমনভাবে বলবে যেন সে ঐ
মহিলাকে দেখছে। (ফাতহুল বারী: ৯/৩৩৮;
জামিউল আহকামিন নিসা : ৪/৩৩৭)
{সমাপ্ত}